Kadambini Ganguly-Untold Story-India's First Woman Graduate and Doctor


ছবি সংগৃহীত হয়েছে গুগুল থেকে

Kadambini Ganguly-Untold Story-India's First Woman Graduate and Doctor

কাদম্বিনী
গাঙ্গুলি ( বসু
) প্রথম মহিলা গ্র্যাডুয়েট, মেডিক্যাল কলেজের প্রথম ছাত্রী এবং ইউরোপীয় চিকিৎসা শাস্ত্রে শিক্ষিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসক। মেয়েরা যখন ঘরের বাইরে বেরোনোর সাহস পেত না তখন তিনি একের পর এক বাঁধা পেরিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন আর পরবর্তী মেয়েদের এগিয়ে আসার দরজা খুলে দিয়েছেন।

তিনি রবীন্দ্রনাথের সমসাময়িক। একই জন্ম সাল দুজনেরই। দুজনেই নিজের জগতের আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র।

তিনিই প্রথম মহিলা চিকিৎসক, যিনি নিজের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্র্যাক্টিস করতেন সেই যুগে।' হিন্দু প্যাট্রিয়ট ' এর মত কাগজে তার বিজ্ঞাপন বেরোতো।

জন্ম :- ব্রাহ্ম সংস্কারক ব্রজকিশোর বসুর কন্যা কাদম্বিনীর জন্ম হয় ১৮ই জুলাই ১৮৬১ তে বিহারের ভাগলপুরে । তাঁর মূল বাড়ি ছিল বর্তমান বাংলাদেশের বরিশালের চাঁদসিতে। তাঁর বাবা ভাগলপুর স্কুলের প্রধানশিক্ষক ছিলেন।

পড়াশুনা ও ছাত্রীজীবন:- ব্রজকিশোর বসু অভয়চরণ মল্লিকের সাথে ভাগলপুরে মহিলাদের অধিকারের আন্দোলন করেছিলেন। তাঁরা মহিলাদের সংগঠন ভাগলপুর মহিলা সমিতি স্থাপন করেছিলেন ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে । এই ঘটনা ছিল ভারতে প্রথম। তখন কাদম্বিনী ২ বছরের। বাড়িতে বাবার মত মহৎ মানুষের প্রভাব ছিল সারা জীবন তার ওপর।মুক্ত চিন্তা ও পড়াশোনায় অদম্য আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তার বাবার উৎসাহ।বাবা ও দাদা মনোমোহন দাসের উৎসাহ ও সাহায্যার্থে কাদম্বিনীর কলকাতায় পড়তে আসা। দাদা মনোমোহন পেশায় ছিলেন কলকাতার নামকরা বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার। মনোমোহন, দ্বারকানাথ গাঙ্গুলি ও দুর্গামোহন দাসের মত সমাজ সংস্কারক ও নারীশিক্ষার সমর্থকরা উদ্যোগ নিয়ে ২২নং বেনিয়াপুকুর লেনে স্থাপন করেন ' হিন্দু মহিলা বিদ্যালয় '।সেকালের পরিপ্রেক্ষিতে এটা ছিল বোর্ডিং স্কুল। ভাবতে ‌অবাক লাগে।এখানেই কাদম্বিনীর তথাকথিত শিক্ষা জীবন শুরু।যদিও এই বিদ্যালয় পরে উঠে যায়।এরপর বালিগঞ্জ রোডে ' বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয়' স্থাপন হয়।এটি বাঙালি মেয়েদের জন্য প্রথম 'ইংলিশ বোর্ডিং স্কুল'।যদিও পরবর্তীতে এই স্কুলকে বেথুন স্কুলের সাথে মিলিয়ে দেয়া হয়েছিল। কাদম্বিনী দেবী বেথুন স্কুলের প্রথম ছাত্রী হয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশিকা/এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসেন। মাত্র ১ নম্বরের জন্য প্রথম বিভাগ পান নি।তাতে কিন্তু তার চলা থেমে যায় নি।তার জন্যই মূলত সরকারের সহযোগিতায় বেথুন স্কুলকে বেথুন কলেজে পরিবর্তন করা হয়।তিনি FA পাশ করেন ১৮৭৯ সালে।এই পরীক্ষায় আর একজন মহিলাও পাশ করেছিলেন,তিনি ছিলেন চন্দ্রমুখী বসু।যদিও ইনি প্রাইভেটে পরীক্ষা দিয়েছিলেন দেরাদুন থেকে।এদের যুগ্ম বিজয় মেয়েদের এগিয়ে চলার পথে আর একটি ইতিহাস রচনা করলো। বেথুনকলেজে বিএ পড়ার দরজা খুলে গেলো।দুজনেই ১৮৮৩ সালে বিএ পাস করলেন।তাঁরা ছিলেন ভারতে এবং সমগ্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রথম মহিলা গ্র্যাজুয়েট। শোনা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে এত লোক এসেছিল এই মহিলাদের দেখতে যে ভিড় সামলানো মুসকিল হয়ে পড়েছিল।এরপর তিনি ঠিক করেন যে তিনি এমবিবিএস পড়বেন।কিন্তু তখন কেবল মাদ্রাজ মেডিক্যাল কলেজেই মেয়েদের ভর্তি শুরু হয়েছিল ১৮৭৫ সাল থেকে।কিন্তু কাদম্বিনী হাল ছাড়েনি নি।নানান বাঁধা পেরিয়ে নিজেকে অনন্য করে প্রথম মহিলা ছাত্রী হিসাবে ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজ (CMC) নিজের নাম নথিভুক্ত করেন ১৮৮৪ সালে।ইতিহাস রচনা হয়। তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় মহিলা যিনি পাশ্চাত্য চিকিৎসারীতিতে চিকিৎসা করবার অনুমতি পান । মেডিক্যাল কলেজে পড়া কালীন তিনি সরকারের স্কলারশিপ পান যা ছিল মাসে ২০ টাকা। যদিও মেডিক্যাল কলেজের প্রফেসরসহ বেশিরভাগই মেনে নিতে পারেন নি তাঁকে,নেহাতই নিজেদের আত্ম অহঙ্কারে আঘাত লেগেছিল বলে বোধ হয়।তাই লিখিত পরীক্ষায় অনায়াসেই পাস করলেও প্র্যাক্টিক্যাল একটি পেপারে ১ নম্বরের জন্য ফেল করিয়ে দেওয়া হলো তাকে। MB ডিগ্রী পেলেন না তিনি।এই সময় মেডিকেল কলেজের সর্বোচ্চ প্রিন্সিপাল কোটস তার সাথে ঘটে যাওয়া সব জানলেন।ডক্টর কোটস সব বুঝে ১৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দে তাকে দিলেন ' গ্র্যাডুয়েট অফ দা মেডিক্যাল কলেজ অফ বেঙ্গল ' বা জিএমসিবি (GMCB) উপাধি। ফলে ডাক্তারি প্র্যাকটিসের পথে কোনো বাধা থাকলো না তাঁর। শুরু হলো কর্মজীবন।

কর্মজীবন :- ইডেন হাসপাতালে তাকে কাজের সুযোগ করে দেন তৎকালীন মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল কোটস নিজেই।শুরু হলো কর্মজীবন।কিন্তু ডিগ্রী না থাকায় নার্সের মত ব্যবহার করা হতো তার সাথে সেখানে।রোগ নির্ণয় ও অস্ত্রোপচার করতে দেয়া হতো না তাকে।১৮৯০ সালে লেডি ডাফরিন হাসপাতালে যোগ দেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল এর সুপারিশে।পান ৩০০ টাকা মাসিক বেতন,যা বর্তমান দিনে প্রায় ৪.৫ লক্ষ টাকার সমান।কিন্তু এ জীবনও সুখের হলো না।ব্রিটিশ ডাক্তাররা ও দেশীয় পুরুষ ডাক্তাররা তাকে কখনোই সেই জায়গায় পৌঁছতে দিচ্ছিলেন না। মিড ওয়াইফ এর মত আচরণ করতেন তার সাথে।পথে বাধা হচ্ছিল তার ডিগ্রী না থাকাটা।তাই তিনি মনস্থির করলেন বিদেশে পাড়ি দেবেন।হারতে তিনি শেখেননি।অবশেষে দাদা মনমোহন ও স্বামীর অকুণ্ঠ সমর্থনে তার সন্তানদের সৎ মেয়ে বিধুমুখীর কাছে রেখে জাহাজে পাড়ি দিলেন ১৮৯৩ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি।পৌঁছলেন ২৩শে মার্চ।খুবই দ্রুত স্কটিশ কলেজ অফ এডিনবার্গ থেকে ৩টে ডিপ্লোমা কোর্স পাশ করেন - এল আর সি পি (এডিনবরা), এল আর সি এস (গ্লাসগো) এবং ডি এফ পি এস (ডাবলিন) উপাধি নিয়ে দেশে ফেরেন। সেবছর মাত্র ১৪ জন সে পরীক্ষায় পাস করেছিলেন এবং মহিলা হিসাবে তিনিই ছিলেন একা।এই সম্মান নিয়ে দেশে ফিরলেন তিনি।তিনি সাথে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সিনিওর ডাক্তার হিসেবে লেডি ডাফরিন হাসপাতালে মহিলা রোগ বিশেষজ্ঞ হিসাবে যোগ দেন অর্জিত সম্মানের সাথে।পরে যদিও বাড়িতে চেম্বার খুলে প্রাইভেটে প্র্যাক্টিস করতেন। কলে যেতেন রোগী দেখতে।নিজের গাড়িতে চেপে সারা কলকাতা ঘুরে রোগী দেখে বেড়াতেন।

Related Posts : Nanibala Devi

কর্মক্ষেত্রে সাফল্য :- বিলেত থেকে ফেরার পর খুবই পসার জমেছিল এই লেডি ডাক্তারের।কলে যেতেন রোগীর বাড়ি।তার নাম ছড়িয়ে পড়ল রাজ পরিবারেও।নেপালের রাজমাতা অসুস্থ হলে ডাক পরে তাঁর।তিনি দায়িত্ব সহকারে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলেন তাকে।রাজা খুশি হয়ে দুহাত ভরে তাকে উপহার দেন।দামী দামী জিনিসের সাথে উপহার দিলেন জ্যান্ত টাট্টু ঘোড়া।সেই ঘোড়াটানা গাড়ি করেই পরে তিনি রোগী দেখে বেড়াতেন। এরপর থেকেই রাজপরিবারের চিকিৎসক হলে উঠলেন।শোনা যায়,একবার এক মহিলাকে পুরুষ ডাক্তাররা টিউমার সনাক্ত করে চিকিৎসা করছিলেন,সেখানে কাদম্বিনী দেবী সনাক্ত করেন যে,সেই মহিলা গর্ভবতী ও সুস্থ সন্তানের জন্মের দায়িত্ব তিনিই নেন ও সন্তান জন্ম নেয়। নিজের কাজের প্রতি ছিল অসম্ভব দায়িত্ববোধ।তাই যেদিন স্বামী দ্বারকানাথ মারা যান,সেদিন বিকেলে যখন এসেছিল প্রসবের কল তখন সবাই অবাক হলেও তিনি গেছিলেন।বলেছিলেন,"যে গেছে সে তো আর ফিরবে না, যে নতুন প্রাণ পৃথিবীতে আসছে তাকে তো আনতে হবে"।এই মানসিক দৃঢ়তা কজনের থাকে।তাই তিনি অনন্য।

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ও অ্যনি ব্যসান্তের উচ্ছসিত প্রশংসা :- ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল হলেন মডার্ন নার্সিংএর পথিকৃৎ,তিনি কাদম্বিনীর গুণমুগ্ধ ছিলেন। কাদম্বিনীর চাকরির সুপারিশে তাঁর বন্ধুকে লেখা চিঠিতে তিনি লেখেন - 

" (She) has already passed what is called the first licentiate in medicine and surgery examinations and is to go up for the final examination in March next. This young lady, Mrs. Ganguly, married! after she made up her mind to become a doctor! and has had one, if not two children since. But she was absent only thirteen days for her lying-in!! and did not miss, I believe, a single lecture!!" she wrote. She added in the letter that she had been asked to recommend Kadambini to Lady Dufferin Women's Hospital.

Annie Besant also hailed Kadambini as a "symbol that India's freedom would uplift India's womanhood" in her book 'How India Wrought For Freedom'.

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল

অ্যনি ব্যসান্ত
ছবি সংগৃহীত হয়েছে গুগুল থেকে

প্রতিকূলতা :- তিনি হিন্দু রক্ষনশীল সমাজের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন । ১৮৯১ খ্রীষ্টাব্দে রক্ষনশীল বাংলা পত্রিকা বঙ্গবাসী তাঁকে পরোক্ষ ভাবে বেশ্যা বলেছিল । কাদম্বিনী এর বিরুদ্ধে মামলা করে জেতেন । বঙ্গবাসী পত্রিকার সম্পাদক মহেশ চন্দ্র পাল কে ১০০ টাকা ফাইন এবং ছয় মাসের জেল দেওয়া হয় ।
সখ:- তিনি ভীষণ পারদর্শী ছিলেন কুরুসের কাজে। তার হাতে বোনা লেসের কাজ ছিল দেখার মত নিখুঁত।সংসারের কাজে ফাঁকে,গল্প করতে করতে হাত চলতে থাকত।রোগী দেখতে আসা যাওয়ার পথে গাড়িতে বুনতে থাকতেন।সময়কে কখনোই বৃথা নষ্ট হতে দেন নি।

রাজনৈতিক জীবন :- ১৮৮৯ সালের আগে মহিলাদের Indian National Congress(INC) এ অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে বোম্বে শহরে কংগ্রেসের পঞ্চম অধিবেশনে প্রথম যে ছয় জন নারী প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন কাদম্বিনী ছিলেন তাঁদের অন্যতম একজন । এদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন স্বর্ণকুমারী দেবী ও তার মেয়ে সরলা দেবীও ছিলেন। পরের বছর ১৮৯০ সালে তিনি কলকাতার কংগ্রেসের ষষ্ঠ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন । কাদম্বিনী ছিলেন কংগ্রেসের প্রথম মহিলা বক্তা । তিনিই প্রথম ইংরাজীতে বক্তব্য রাখেন।
কাদম্বিনী গান্ধীজীর সহকর্মী হেনরি পোলক প্রতিষ্ঠিত ট্রানসভাল ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতি এবং ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দে কলকাতায় অনুষ্ঠিত মহিলা সম্মেলনের সদস্য ছিলেন । ১৯১৪ সালে তিনি কলকাতায় সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজের অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন । এই অধিবেশন মহাত্মা গান্ধীর সম্মানের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল । কাদম্বিনী চা বাগানের শ্রমিকদের শোষনের বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং তিনি তাঁর স্বামীর দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করেন যিনি আসামের চা বাগানের শ্রমিকদের কাজে লাগানোর পদ্ধতির নিন্দা করেছিলেন । কবি কামিনী রায়ের সাথে কাদম্বিনী দেবী ১৯২২ খ্রীষ্টাব্দে বিহার এবং ওড়িশার নারী শ্রমিকদের অবস্থা তদন্তের জন্য সরকার দ্বারা নিযুক্ত হয়েছিলেন।

দাম্পত্য জীবন ও বাসস্থান:- ১৮৮৩ সালে মেডিকেল কলেজে ঢোকার পরেই তিনি তাঁর শিক্ষক দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীকে বিয়ে করেন। দ্বারকানাথ বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক ও মানবদরদী সাংবাদিক হিসেবে খ্যাত ছিলেন। যখন তিনি বিয়ে করেন তখন ৩৯ বছর বয়েসের বিপত্নীক, কাদম্বিনীর বয়স তখন ছিল একুশ। স্বামী ১৭ বছরের বড়ো হলেও মনের ও মতের মিল ছিল অসম্ভব।বিবাহ মুহূর্ত থেকে অনেক সামাজিক ও পারিবারিক বাধা থাকলেও নিজেদের মিল থাকায় একই সাথে পথ চলতে অসুবিধা হইনি কোনদিন।
১৩ নম্বর কর্ন ওয়ালিস স্ট্রীটের বাড়িতে (বিধান সরণী) ছিল তাদের সুখের সংসার। এই বাড়িটি একটি প্রাঞ্জল ইতিহাসের সাক্ষী। বাড়ির তিনতলায় থাকতেন তারা। আর দোতলায় ছিল কন্যা বিধুমুখী ও উপেন্দ্রকিশোরের সংসার।এই বাড়িতেই জন্ম নেন সুকুমার রায় ও তার ভাই বোনেরা।এই বাড়ির ছাদে প্রায় বসত জলসা।উপেন্দ্রকিশোরের ভালো বেহালা বাজাতে পারতেন।সেই জলসায় এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকরের মত স্বামী বিবেকানন্দ ও।
১৮৯৮ সালে দ্বারকানাথের মৃত্যুর পর কাদম্বিনী দেবী ১৩নং কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের (বর্তমানে বিধান সরণি) বাড়ি ছেড়ে চলে যান ৬ নম্বর গুরুপ্রসাদ লেনের বাড়িতে। ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির সামনে বেচু চ্যাটার্জি স্ট্রিট ধরে কিছুটা এগিয়ে বাঁ দিকের গলিটা গুরু প্রসাদ চৌধুরী লেন। সে বাড়ি আজ জরাজীর্ণ।কিয়দংশ ভেঙ্গেও পড়েছে। প্রোমোটারের আনাগোনা চলছে এই বাড়িতে।যে মহিলা ইতিহাস রচনা করেছেন তার বাড়িটিও আমাদের গর্বের,দ্রষ্টব্য স্থান হতে পারত।ভবিষ্যত্ প্রজন্ম হয়তো এখানে দেখবে বহুতল আধুনিক বাড়ি।


পরিবারের চোখে তিনি :- বিশিষ্ট লেখিকা লীলা মজুমদার ছিলেন কাদম্বিনীর আত্মীয়া। কাদম্বিনীর সৎ মেয়ে বিধুমুখী হলেন লীলা মজুমদারের জেঠিমা। কাদম্বিনীর মৃত্যুর মাত্র তিন বছর আগে লীলা মজুমদার তাঁকে সামনাসামনি দেখেছিলেন এবং মুগ্ধ হয়েছিলেন। ‘পাকদণ্ডী’ গ্রন্থে তিনি লিখেছেন সেই মুগ্ধতার কথা।  বিধুমুখীর মেয়ে পুণ্যলতা চক্রবর্তী তাঁর ‘ছেলেবেলার দিনগুলি’ বইয়েই লিখেছিলেন—‘‘এক দিকে খুব সাহসী আর তেজস্বীনা, অন্য দিকে ভারি আমুদে মানুষ ছিলেন তিনি। যেখানে বসতেন হাসি, গল্পে একেবারে মাতিয়ে তুলতেন। সঙ্গে সঙ্গে হাতও চলত। আমরা হাঁ করে তাঁর গল্প শুনতাম আর তাঁর আঙুলগুলির খেলা দেখতাম। কী অদ্ভুত ভাবে তাড়াতাড়ি কী সুন্দর লেস বোনা হচ্ছে।’’ পুণ্যলতা এবং তাঁর ভাইবোন সুকুমার, সুখলতা, সুবিনয়রা ছোটবেলায় কেউ জানতেনই না যে, কাদম্বিনী তাঁদের নিজের দিদিমা নন, মায়ের বিমাতা।


ব্যক্তি কাদম্বিনী :- আত্ম মর্যাদাসম্পন্ন এই মহীয়সী নারী সকল ক্ষেত্রে প্রথমা হয়েছেন নিজগুনে, দৃঢ় প্রতিজ্ঞায়।সৌখিন,সুন্দর ছিলেন। তাল মিলিয়ে আধুনিক পোশাক,যেমন শাড়ি,জুতো সবই ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ্য ছিলেন।তবে স্পষ্ট বক্তা তো ছিলেনই, অন্যায়ের আপোস করেননি। পাশাপাশি আমুদে স্বাভাবেরও ছিলেন।আবার সংসারের প্রয়োজনে কড়াও হয়েছেন সময় বিশেষে। কর্মনিষ্ঠ। আট সন্তানের মা হওয়ার জন্য, সংসারের জন্যও তাঁকে বেশ সময় দিতে হত । এই আট সন্তানের মধ্যে দুজন ছিল দ্বারকানাথের প্রথম পক্ষের - বিধুমুখী ও সতীশ,যাদের কোনোদিনও বুঝতে দেননি মার অভাব। তিনি সূচিশিল্পেও নিপুনা ছিলেন। বিখ্যাত আমেরিকান ইতিহাসবিদ ডেভিড কফ লিখেছেন, "গাঙ্গুলির স্ত্রী কাদম্বিনী ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে স্বাধীন ব্রাহ্ম নারী। তৎকালীন বাঙালি সমাজের অন্যান্য ব্রাহ্ম এবং খ্রিস্টান নারীদের চেয়েও তিনি অগ্রবর্তী ছিলেন। সকল বাঁধার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ হিসেবে নিজেকে জানার তাঁর এই ক্ষমতা তাঁকে সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজে নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলা জনগোষ্ঠীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎসে পরিণত করে।

আনন্দীবাই গোপালরাও যোশী ও কাদম্বিনী দেবীকে নিয়ে মানুষের মনে যে দ্বন্দ্ব , কে প্রথম মহিলা ডাক্তার ?
সন ও তারিখ দেখলে আনন্দীবাই প্রথম ডাক্তারি ডিগ্রী পান।তবে বিদেশে।উনি পেনিসেলভিনিয়া কলেজ অফ মেডিসিন থেকে ডাক্তারি পাস করেন।১৮৮৬ তে।তবে অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরে আসেন ১৮৮৭তে ও মারা যান।তাই ডাক্তারি প্র্যাক্টিস করা তার হয়ে ওঠে নি। সেখানে কাদম্বিনীই ছিলেন প্রথম ভারতীয় মহিলা ডাক্তার যিনি ডাক্তারিকে পেশা করে কর্মরত ছিলেন ৩৭ বছর।
মৃত্যুর দিন :- ১৯২৩ সালের ৩রা অক্টোবরগুরুপ্রসাদ লেনেরর বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সেদিনও।হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচার করে ফিরে পুত্রবধূর সাথে গল্প করছিলেন অপারেশানের সাফল্যর কথা।পুত্রবধূ সরলাকে খাবার বাড়তে বলে স্নান করতে গেলেন।স্নান সেরে ফিরে এসেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন ৬২ বছর বয়সে

তথ্যসূত্র :- উইকিপিডিয়া, কাদম্বিনীর জীবনী, ' পাকদন্ডী '- লীলা মজুমদার, 'ছেলেবেলার দিনগুলি '-পূণ্যলতা চক্রবর্তী

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

If you have any query, please let me know.

Popular Posts

Top 10 Rajbari near Kolkata-Zamindar Houses in Bengal-Heritage Home Stay-Dayout Plan-Weekend Tour

Garalgacha Jamidar Bari-Garalgacha Babuder Bari-Bonedi Barir Pujo

Mahishadal Rajbari-Royal Heritage Stay

Gobardanga Jamidar Bari-Prasannamoyee Kali Mandir-Gobardanga Kalibari